Friday, 9 October 2015

মোবাইল নম্বর ঠিক রেখেই ৩০ টাকায় অপারেটর বদল

মোবাইল নম্বর ঠিক রেখেই ৩০ টাকায় অপারেটর বদল
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রাহকরা নম্বর অপরিবর্তিত রেখে মোবাইল অপারেটর পরিবর্তন বা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সুবিধা পাবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। এই সুবিধা নিতে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৩০ টাকা খরচ হবে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহারকারী তাদের আগের নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের এ সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ সেবা চালু হলে টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার মান আরো বাড়বে।

তারানা হালিম বলেন, এতে মোবাইল অপারেটরগুলোর মধ্যে উন্নতমানের সেবা দেওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল রেখে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত বিকশিত হচ্ছে। তাই এখানকার সেবাও বিশ্বমানের হওয়া প্রয়োজন।

এমএনপি চালু হলে সেবার গুণগত মান অনেক বাড়বে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রীর আশা, এখন একজন অনেক সিম ব্যবহার করলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা কমবে না। খুব দ্রুতই এ সেবা দিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন পাওয়া গেছে। কিছু প্রক্রিয়া শেষ করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। উন্মুক্ত দরপত্রে দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। তবে বাধা থাকবে বিদ্যমান মোবাইল ফোন অপারেটদের জন্য।

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জানান, বার্ষিক লাইসেন্স ফি হবে ২০ লাখ টাকা ও লাইসেন্স ইস্যুর পর দ্বিতীয় বছর হতে এমএনপি অপারেটর সরকারকে ৫.৫ শতাংশ হারে রাজস্ব দেবে। সুষ্ঠুভাবে এমএনপি সেবা চালু করার জন্য সরকারের সব প্রচেষ্টাই অব্যাহত থাকবে।

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে ৩০ টাকায় গ্রাহকরা এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যেতে পারবে। আবার যে অপারেটরে গেল সেখানকার সেবাও যদি পছন্দ না হয় তাহলে ৪০ দিন পর তারা আবারও নতুন কোনো অপারেটরে যেতে পারবে বা আগের অপারেটরে ফেরত আসতে পারবে। আর এর প্রতিটি পরিবর্তনের জন্যে লাগবে ৩০ টাকা করে।

টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি জানায়, এমএনপি সুবিধা চালু করতে অপারেটর হিসেবে বিটিআরসি একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেবে। এ জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। নম্বর না বদলে গ্রাহকদের অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২০১৩ সালের জুন মাসে মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি।

সংস্থাটি জানায়, অপারেটরদের টু-জি লাইসেন্স নবায়নের সময় গাইড-লাইনে অপারেটররা মিলে এমএনপি চালু করবে বলে লেখা ছিল। কিন্তু অপারেটররা সঠিক সময়ে এমএনপি চালু করতে পারেনি। নির্দেশনা জারির তিন মাসের মধ্যে অপারেটরদের এমএনপি সেবা শুরু করার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে প্রি-পেইড, পোস্ট পেইড উভয় ধরনের গ্রাহককেই এই সুবিধা দেওয়ার কথা।

পাশের দেশ ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের ৭২টি দেশে বর্তমানে এমএনপি সুবিধা চালু রয়েছে। বিভিন্ন অপারেটরের অফারে একজন গ্রাহক এক অপারেটর ছেড়ে প্রায় সময়ে অন্য অপারেটরে চলে যায়। এতে গ্রাহকদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারীর পরিচয়ের মাধ্যম হিসেবে রূপ নেয়। এ অবস্থায় গ্রাহকের জন্য এই সেবা চালু করতে অপারেটরদের নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি।

সংবাদ সম্মেলনে তারানা হালিম জানান, গত তিন মাসে তিনি বেশ কিছু উদ্যোগ নিলেও বাস্তবতা পেতে যাওয়া প্রথম পদক্ষেপ এটি।

একটিও অনিবন্ধিত সিম থাকবে না : সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তারানা হালিম বলেন, বাজারে একটিও অনিবন্ধিত সিম থাকবে না। মোবাইল সিমকার্ড পুনর্নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক ও ১৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয়ভাবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ শুরুর কথা রয়েছে।

সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনির্ধারিত সময় ধরে চলতে পারে না জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, আগে অভিযোগ ছিল অপারেটররা এনআইডি সুবিধা পায় না। এখন এনআইডি সুবিধা তৈরি হয়েছে। অপারেটরদের সঙ্গে এনআইডির সমঝোতার জন্য এখন পর্যন্ত সব প্রস্তুতি রয়েছে। তারা এখন পরীক্ষামূলক সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমরা অনিয়মকে সম্মান করব না, এক দিনের জন্যও না। মার্চ-এপ্রিলের পর অভিযান চলবে।'

মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর ৯০ দিনের টার্গেট ধরে কাজ করছেন জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, 'পারফরমেন্স ভালো না হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে পরিবর্তন আনা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কোনো বিভাগের ব্যর্থতা মানে তারা কাজ করেনি। তাই কেউ বদলি হবেন আবার কেউ পরিবর্তন হবেন। মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'